সিলেটের বিশ্বনাথে মাছের খামারে আ.লীগ নেতার লাশ – প্রহরী পলাতক

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:- সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ মালিকানাধীন মাছের খামারে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। নিহত আহমদ আলী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও এলাকার সালিশী ব্যক্তিত্ব। পূর্ব বিরোধের জের ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের পুরাণ সৎপুর গ্রামস্থ আহমদ আলী মৎস্য খামার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। আহমদ আলী দক্ষিণ সৎপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লাহর পুত্র। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আহমদ আলীর মাছের খামারের পুকুরের মধ্যে তার (আহমদ) লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনসাধারণ থানা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার পর থেকে খামারের প্রহরী সৎপুর খাসজান গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র জমির হোসেন (৩০) পলাতক রয়েছে। আহমদ আলী খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খুনের ঘটনায় এলাকাবাসী ও পরিবারের সন্দেহের তীর দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ মারুফের দিকে রয়েছে।

সুরতহাল রিপোর্টকারি কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই দিদারুল আলম জানান, লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও একাধিক জখম রয়েছে।

তবে বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ বলেন, প্রাথমিক ধারণায় মনে হচ্ছে আহমদ আলীকে খুন করা হয়েছে। এঘটনায় তার (আহমদ) পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 
 
খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীর পরিবারের দাবি, এলাকার একটি শালিস বৈঠক ও মৎস্য আড়ৎ কমিটি গঠনের জের ধরেই দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ মারুফ এবং তার সহযোগীরা খামারের প্রহরী জমির হোসেনের সাথে পরিকল্পিতভাবে আহমদ আলীকে হত্যা করেছে। পুকুর থেকে লাশ উদ্ধারের পর আহমদ আলীর সাথে থাকা মোবাইল ফোন, পায়ের জুতা, টর্চ লাইট ও পকেটে কোনা টাকা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় টিকির বাজারে যান আহমদ আলী। এদিকে রাত ৮টার পর্যন্ত ১৪ বছরের ছেলে ইব্রাহিম বাড়িতে না ফেরায় আহমদ আলীর ভাতিজা তাকে বিষয়টি অবহিত করে মোবাইলে কথা বলেন। এরপর ইব্রাহিম বাড়িতে ফিরে আসলে আবার মোবাইলে আহমদ আলীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটি বন্ধ পান পরিবারের লোকজন। আহমদ আলীর মোবাইল বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী আহমদ আলীকে খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোনার দিকে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর তার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

আহমদ আলী খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, তিনি (আহমদ আলী) ছিলেন এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষের বন্ধু। বন্ধুসুলভ আচরণ ছাড়া তার কাছ থেকে কেউ কোন দিন কোন খারাপ আচরণ পাননি। এরকম মানুষকে কেউ খুন করতে পারে এটা বিশ্বাস করা যায় না। ‌দ্রুত খুনীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :239 বার!

error: Content is protected !!
JS security