সিলেটে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ।

স্টাফ রিপোর্টার:- বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে  আজ ২১ জুন ২০২০ দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য খাতের দুর্দশা লাঘবের দাবিতে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মুখে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক ও বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়ের সভাপতিত্বে এবং বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পালের   পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলার  নেতা এডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাসদ সিলেট জেলার সদস্য জোবায়ের আহমেদ চৌধুরী সুমন, যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি নিরঞ্জর দাস খোকন, বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সদস্য মুখলেছুর রহমান, রেজাউর রহমান রানা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি   সঞ্জয় কান্ত দাস, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর শাখার আহবায়ক সঞ্জয় শর্মা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার করুন অবস্থা জণগনের সামনে সামনে আরো মুর্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খুবই নাজুক। সারা দেশের ৪৭টি জেলায় কোন ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নেই। সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবের কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা কর্মীরা।  সিলেটেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বৃহত্তর সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসার জন্য যে ওসমানী হাসপাতাল সেখানে চালু আছে মাত্র ৪টি আইসিউ বেড।
কিটের অভাবে পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। এ রকম পরিস্থিতে বাজেট অনুষ্ঠিত হল, মানুষ প্রত্যাশা করেছিল  স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হবে, কিন্তু আমরা দেখলাম পুনরায় স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হলো না। এরকম পরিস্থিতিতে আজ বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সিলেটও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  বক্তারা সুনির্দিষ্টভাবে ১১দফা দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানন।
(১) জনগণের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত এবং বাজেটে কমপক্ষে ২০% স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা, সময়মতো অর্থছাড় ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
(২) প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করে উপজেলায় ২০০, জেলায় ৫০০ এবং সারাদেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
(৩) স্বাস্থ্য সামগ্রী ও সুরক্ষা উপকরণ কেনা ও সরবরাহ করার সাথে সড়িত দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
(৪) নন করোনা রোগীদের কোন হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া যাবে না, কোন বেসরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দিলে তাদের শাস্তি দিতে হবে এবং হাসপাতাল রাষ্ট্রকর্তৃক অধিগ্রহণ করতে হবে।
(৫) করোনা সংক্রমণ ব্যাধি ফলে সকল নাগরিকের টেস্ট এবং চিকিৎসা রাষ্ট্রীয় খরচে করতে হবে।
(৬) করোনাকালে সকল বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করতে হবে।
(৭) চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সেবা কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সংবাদ কর্মীসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
(৮) করোনাকালে দায়িত্ব পালনকারীদের ঝুঁকিভাতা, বীমা ও সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।
(৯) করোনাকালে কোন কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই করা চলবে না, কোন মালিক শ্রমিক ছাঁটাই করলে ঐ কারখানা রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করতে হবে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করতে হবে।
(১০) করোনায় কর্মহীন-রোজগারহীনদের খাদ্য ও নগদ অর্থসহায়তা দিতে হবে।
(১১) কৃষি, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াও এবং সামরিক, জনপ্রশাসনসহ অনুৎপাদনশীলখাতে বাজেট বরাদ্দ কমাতে হবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :117 বার!

JS security