সুনামগঞ্জের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র ইমন হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:-সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ছাতকের বাতিরকান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ, রফিক, জায়েদ ও উপজেলা ব্রাহ্মণ জুলিয়া গ্রামের সুজন। এদের মধ্যে ছালেহ আহমদ ছাড়া বাকিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। ওই বছরের ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার পুলিশ। অপহরণ ও মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মধ্যে ৩ জনকে বাদ দেন আদালত। চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়।আলোচিত এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, বর্তমানে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নিহতের মা বাবাসহ ২৩ জন। আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর বলেন, ইমন হত্যা মামলা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। লোমহর্ষক এই হত্যার বিষয়ে আমরা আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইমনের বাবা বলেন, আমি এই বিচারে খুবই সন্তুষ্ট, আমি আশা করি আদালত খুব দ্রুত আপরাধিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :228 বার!

error: Content is protected !!
JS security