সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে শিল্প ও পণ্য- মেলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শিল্প ও পণ্য মেলা। এখানে বিনোদনের পাশাপাশি নানা পণ্যের পরিচিতি ও কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতা এবং দর্শনার্থীরা। মেলার প্রথম দিন ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।বাংলাদেশ বেনারসি মসলিন সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় ও সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর স্টেডিয়ামে মেলার উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মেলার প্রবেশদ্বারেই তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। আয়োজকরা জানান, প্রান্তিক এই জনপদ সুনামগঞ্জের মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতে প্রথমবারের মতো এই মেলায় সন্নিবেশন করা হয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের খোরাক। এই মেলায় প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হয়েছে। অলিম্পিক সার্কাস প্রদর্শনী, ডেঞ্জার গেমস, যাদু প্রদর্শনী, শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক আইটেম, দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণাধারা প্রভৃতি। মেলায় একশ’টি স্টল তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে নিয়েছে, রয়েছে আকর্ষনীয় ১৭টি প্যাভিলিয়ান। রয়েছে নামাজের জায়গা ও প্রয়োজনীয় শৌচাগার। মাসব্যাপী এ মেলার গেইট ও বিভিন্ন স্টল প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। তাছাড়া মেলার শেষ দিন রাত ১০:৩১ মিনিটে প্রবেশ টিকের উপর অনুষ্ঠিত হবে র‌্যাফেল ড্র। এতে ৭টি মোটর সাইকেলসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার রয়েছে। উদ্বোধনের দিন সকাল থেকেই মেলায় আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিকেল থেকেই মেলার মাঠে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, মেলার শেষ দিকের ভিড় এড়াতে শুরুতেই এসেছেন। এবং মেলার মধ্যে শিশুপার্ক গুলোতে বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা। সেখানে বেশ ভিড় দেখা গেল। বিভিন্ন প্যাভিলিয়নেও নানা বিনোদনের আয়োজন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এক স্থানে নানা পণ্য যাচাই করে কেনার সুযোগ থাকে। এছাড়া মেলায় বিভিন্ন পণ্যে ব্যাপক পরিমাণ ছাড় থেকে। ফলে ক্রেতাদের অনেকেই এই মেলা থেকেই কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করে থাকেন। তাছাড়া বেশিরভাগ কর্মজীবী মানুষ ব্যস্ততার কারণে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে মেলায় যেতে পারেন না। মেলা শুরু হওয়ার পর পরই ছুটির দিনে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার ক্রেতা ও দর্শনার্থী। শুক্রবার ছিল মেলার প্রথম দিন। কিছু স্টল ও প্যাভিলিয়নে পণ্যের পসরা সাজাতে দেখা যায়। আবার সাজানো স্টল গুলোতে পণ্য বিক্রি করতে ব্যস্ত ছিলেন বিক্রয়কর্মীরা। মেলার আয়োজক জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষনিক মেলা আয়োজনের বিভিন্ন দিক তদারকি করে যাচ্ছেন। সামগ্রীক নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও রয়েছেন তৎপর। তাছাড়া সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো মেলা মাঠটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবেও মেলা আয়োজনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। মেলার ডান ও বাম দিক থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন জাতের পণ্যের ১২০টি স্টল। মেলা প্রাঙ্গণের মধ্য স্থানে রয়েছে সিরাজগঞ্জ শিশু পার্কের স্থাপিত শিশু বিনোদনের দৃষ্টি নন্দন ডিজিটাল নৌকা ও ডিজিটাল মিনি রেলগাড়ি, আছে নাগর দোলা, পানির ফোয়ারা, বৈদ্যুতিক টাওয়ার ও অফিস ঘর। মেলা প্রাঙ্গণের পিছন দিকে রয়েছে সিরাজগঞ্জ শিশু পার্কের স্থাপিত আরও একটি শিশু পার্ক। এই পার্কে রয়েছে ডিজিটাল ওয়াটার বোর্ড, ওয়াটার বল, ডিজিটাল ডাম্পিং, হাতি ও ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা। রয়েছে শিশুদের জন্য সকল প্রকার নজরকাড়া বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সকল বিনোদন ডিজিটাল পদ্ধতির।

মেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির ম্যানেজার এম. এ মঈন খাঁন (বাবলু) বলেন, ‘এবারের মেলায় আধুনিক মানের নতুন নতুন শিল্প ও পণ্য এবং শিশু বিনোদনের ডিজিটাল পদ্ধতির নানা আয়োজন নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করি সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এই মেলায় এসে আনন্দ বিনোদন উপভোগসহ সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটা করতে পারবেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :410 বার!

JS security