সুনামগঞ্জে যুবক হত্যায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ধই জলমহাল নিয়ে সদর উপজেলা যুবলীগের নেতা এবং স্থানীয় প্রতিবাদী যুবক আব্দুল আলিম তালুকদার খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বড়ধই জলমহালের ইজারাদার মনোয়ার হোসেনসহ ২৬ জনকে আসামি করে নিহতের মা গোলাপজান বিবি এই হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাজ গ্রামের বড়ধই জলমহালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলীমের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বড়ধই জলমহালের ইজারাদার মনোয়ার হোসেনের ভাড়াটিয়া ফারুক মিয়া মোবাইল ফোনে নিহত আলিমকে মাছ দেয়ার কথা বলে ডেকে নেন জলমহালের খলায়। সেখানে ইজারাদার মনোয়ার হোসেন, হাজী হেলাল, মুনিমের নির্দেশে এলোপাথাড়িভাবে আলিমকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে চাইলে ইজারাদারের লোকজন তাতে বাধা দেয়। পরে আলিমের মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইজারাদার মনোয়ার হোসেনের কাছে আকুতি-মিনতি করে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনেন এবং একটি অটোরিকশাযোগে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে চাইলে ইজারাদারদের প্রভাবে সেখানে চিকিৎসা করতে দেয়নি।

পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে আলিম মারা যান।

শনিবার বিকালে আলিমের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সুনামগঞ্জ সদর থানার সামনে নিয়ে এলে হৃদয় বিধারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় এবং এলাকার বিক্ষুব্ধ যুবকরা আলিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

ইজারাদারের লোকজন জোরপূর্বক আলিমের জায়গা দখল করে নেয় এবং আলিমের রেকর্ডীয় ডোবা থেকে আবারও মাছ ধরতে নিষেধ করায় এ ঘটনার সৃষ্টি হয়।

নিহত আলিম তালুকদারের ভাবি ফুলবানু বলেন, আমার দেবর আমাকে বলেছে- ইজারাদার মনোয়ার হোসেনের নির্দেশে তাকে ধরে নিয়ে খলায় মারপিট করে। মনোয়ার নিজে বুটপায়ে তার উপরে ওঠে লাথি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করেন। আমার দেবরের খুনি ইজারাদার নিজেই। আমরা তার ফাঁসি চাই।

আলিম তালুকদারের খালাতো ভাই উম্মর আলী বলেন, ইজারাদার মনোয়ার অর্ডার দিছইন আলিমরে মাইরা দুই কোটি টাকা খরচ করতে। তাইনের অর্ডারে বিলের লোকজন আমার ভাইরে খলায় এনে জানে মারছে। তারা মারার পর চিকিৎসা নিতেও দেয়নি। মাইরের চুটে আলিমের মুখে ও প্রশ্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমরা আলিমের খুনিদের ফাঁসি চাই।’

বড়দই বিলের ইজারাদার মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চারদিন আগে বিল ফিশিং করে চলে এসেছি। এসব ঘটনায় আমরা জড়িত নই। আমরা কিছুই জানি না।’

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে যুবক আলিমকে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল। ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শুক্রবার রাতে আহত আলিম ওসমানী হাসপাতালে মারা যান। ২৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :207 বার!

JS security