সুনামগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-  সুনামগঞ্জে দৈনিক কালের ছবি পত্রিকার সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।এঘটনার প্রেক্ষিতে আহত সাংবাদিক সাবজল হোসেন বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ৫ জনকে আসামী করে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলা ও থানা সূত্রে জানা যায়, জেলার তাহিরপুর সীমান্ত সংলগ্ন বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে একাধিক দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পত্রিকার সম্পাদকদের নাম ভাংগিয়ে কয়লা চোরাচালান, ইয়াবা, মদ ও অস্ত্র ব্যবসাসহ চাঁদাবাজি করে গত ২ বছরে কোটিপতি হয়েছে। তার চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলায় শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি ) রাত ৭ টায় আব্দুর রাজ্জাক তার ভাই আব্দুল কদ্দুস, শহিদ মিয়া, ভাতিজা রুবেল মিয়া, সোহাগ মিয়াগং দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে নতুন বাজারে সাংবাদিক সাবজল হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে নগদ ৮হাজার ৭শত ৩০টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে এলাকাবাসী ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এর আগে বালিয়াঘাট গ্রামের গৃহবধূ নাজমা বেগম চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক তার বাহিনী নিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা সহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় নাজমা বেগম বাদী হয়ে গত০৮.০৫.২০১১ আদালতে আব্দুর রাজ্জাক,তার ভাই আব্দুল কদ্দুসসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে দঃবিঃ আইনের-৪৪৮/৩৮৫/৩৮০/ ৪২০/৪২৭/৩২৩/ ৩৫৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস সোর্স কালাম মিয়া, জানু মিয়া, ল্যাংড়া বাবুল ও জিয়াউর রহমান জিয়াকে নিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও মাদকদ্রব্য পাচার করে নৌকা বোঝাই করার সময় বিজিবি নৌকা ও অবৈধ মালামালসহ আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেফতার করার পর বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাক, তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস ও সোর্সদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা নং-৯,তারিখ-১৭.০৯.০৭ দায়ের করেন। পরে এসআই নারায়ন মামলাটি তদন্ত করে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাই কুদ্দুসের বিরুদ্ধে গত ১১.০১.০৮ আদালতে চার্জসীট পাঠান। বর্তমানে আদালতে মামলা নং-৬/২০০৮ইং হিসেবে চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রাজ্জাক বিজিবির এক নায়েকের বউয়ের সাথে পরকিয়া করে তাকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া রাজ্জাক তার পাশের গ্রামের এক হিজরাকে বিয়ে করে টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে ছেড়ে দিয়েছে বলে এলাকাবাসি জানান। তার সোর্স জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা নং-১৬৩/০৭, জানু মিয়ার বিরুদ্ধে কয়লা পাচাঁর মামলা নং-২০১/১৫, আব্দুল আলী ভাণ্ডারির বিরুদ্ধে বিজিবির ওপর হামলার মামলা নং-১০৭/১৪ ও লাকমা গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী ল্যাংড়া বাবুল, রজনীলাইন গ্রামের ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র পাচাঁর ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। আর ইয়াবার চালানসহ মাদক সম্রাঞ্জী আংগুরী বেগমকে ২বার জেলহাজতে পাঠানোসহ সোর্স কালাম মিয়াকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে গত ০১.০২.১৯ শুক্রবার জেলহাজতে পাঠানোর পর আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় সাংবাদিক, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর ক্ষেপে যায়। কিন্তু গত ২ দিনে বিজিবি অভিযান চালিয়ে মদ ও অস্ত্র তৈরি সরঞ্জামসহ চোরাচালানি সিরাজুল ইসলাম ও আবুল কাসেমকে গ্রেফতার করলেও আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার না করায় সীমান্ত অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে নির্যাতিত গৃহবধূ নাজমা বেগম বলেন, আমি গরীব ও অসহায় বলে আজ পর্যন্ত সুবিচার পা্ইনি। দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল হয়েছে । এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :964 বার!

JS security