সুনামগঞ্জ ছাত্রদলে কেন্দ্রের তেলেসমাতি, তৃণমূলে ক্ষোভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :- অনুমোদনের ৪ মাস সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির যোজন-বিয়োজন, জেলা নেতৃবৃন্দের নাগপাস এড়িয়ে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠন ও সর্বশেষ কমিটির আহ্বায়ককে অব্যাহতি। জেলা ছাত্রদল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এমন তেলেসমাতিতে বিস্মিত আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকা ছাত্রনেতারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তৃণমূল কর্মীরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পড়েছে এর প্রভাব। সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করার নামে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের হঠাৎ এমন রদবদলে সংগঠনে ভাঙ্গনের পাশাপাশি সাংগঠনিক স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা।

জানা যায়, বিগত কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়ায় চলতি বছরের ১২ মার্চ জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও তারেক মিয়াকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ি কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও বিবাহ ও ছাত্রত্ব নিয়ে অভিযোগ উঠে কমিটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ সদস্যের বিরুদ্ধে। যা একাধিক গণমাধ্যমের শিরোনামও হয়। তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটি অনুমোদনের ৫দিন পর ১৮ মার্চ নবগঠিত কমিটি থেকে ১১ জনকে অব্যাহতি ও নতুন করে ৩ জন সদস্যকে এদের স্থলাভিষিক্ত করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরবর্তিতে আরও ৮ জনকে অব্যাহতি ও নতুন একজন যুক্ত করে পূর্বের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব রেখে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

সম্প্রতি সাংগঠনিক কাজকে গতিশীল করতে ১৮ জুলাই ১১ উপজেলায় ১১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে কেন্দ্রীয় সংসদ। কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই তুলনামূলক নবীণ ও অনভিজ্ঞ। যাদের উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সিভি সংগ্রহ ও সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়। যার বিষয়ে কিছুই অবগত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। দায়িত্বশীলদের নাগপাস এড়িয়ে এই সাংগঠনিক টিম গঠন করায় জেলা কমিটির ক্ষমতা খর্ব হওয়ার অভিযোগও করেন জেলা নেতৃবৃন্দ।

এদিকে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে ২০ জুলাই জেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মমিত ইসমলামকে আহ্বায়ক ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এমন সিদ্ধান্তে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন বর্তমান ও সাবেক অনেক নেতা।

সুনামগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালে তাঁর ফেইসবুক ওয়ালে লেখেন, সুনামগঞ্জ ছাত্রদল সকল আন্দোলন সংগ্রামে সফলভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সেই ছাত্রদলকে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় টিম এখন ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন কেন ? প্রশ্ন হলো আন্দোলন সংগ্রামের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের কেন দায়িত্ব দেয়া হল? কোন গঠনতন্ত্রে আছে জেলাবিহীন উপজেলা গঠন। দ্রুত সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সঠিক সমাধান চাই।

পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম সৌরভ বলেন, বাংলাদেশে ছাত্রদলের যে কয়েকটি সক্রিয় জেলা কমিটি আছে তাঁর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদল একটি। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদল অগ্রভাগে ছিল, আছে। সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করার নামে জেলা নেতৃবৃন্দের অবগত না করে উপজেলা সাংগঠনিক টিম গঠন করা দলের জন্যে শুভকর নয়। জেলার দায়িত্বশীলদের মূল্যায়ন না করে অনবিজ্ঞদের দিয়ে উপজেলা সাংগঠনিক টিম গঠনসহ জেলা কমিটির আহ্বায়ককে অব্যাহতির সমালোনা করেন তিনি। এতে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সদ্য অব্যাহিত প্রাপ্ত জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করেছেন তা আমাদেরকে জানানো হয়নি। সিনিয়রদের মূল্যায়ন না দিয়ে অছাত্র ও অনবিজ্ঞদের স্থান দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে অব্যাহিত দেয়া হয়। এতে আমি বিস্মিত!

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি ও সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক ওমর ফারুক কাওসারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। আপনার সাথে পরে কথা বলব। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :410 বার!

JS security