স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হবে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনকে

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার স্ত্রী আনোয়ারা আহমদ ও মেয়ে ড. সিতারা পারভীন।

শনিবার সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ অনেকে।

হাসপাতাল থেকে তার লাশ গুলশানের প্রেসিডেন্ট কনকর্ডে তার বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে গোসল করানো হবে।

সাহাবুদ্দীন আহমদের জামাতা অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি গতকাল রাত থেকে সিএমএইচে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার ছোট ছেলে সোহেল আহমদ তাকে মোবাইল ফোনে পিতার মৃত্যু সংবাদ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মুহাম্মদ সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, আজ বেলা ২টায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নিজ গ্রাম পেময়ীতে সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দ্বিতীয় জানাজা হবে ২০ মার্চ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। দুদফা জানাজা শেষে রবিবার বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পাশে তার মরদেহ সমাহিত করা হবে।

১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহাবুদ্দীন আহমদকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপরাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নেতৃত্বে দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

সাহাবুদ্দীন আহমদের চাহিদা অনুসারে দেশের সংবিধানের এগারোতম সংশোধনীটি আনা হয়। এর ফলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পরও তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।

১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন।

সাহাবুদ্দীন আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমদ দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে ২০১৮ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।

আর তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় ড. সিতারা পারভীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

তার দুই ছেলে শিবলী আহমদ ও সোহেল আহমদ গুলশানের গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট কনকর্ড বাসায় থাকেন। তিনিও এখানেই বসবাস করতেন। অন্য দুই মেয়ে বর্তমানে শাহানা পারভীন ও সামিয়া পারভীন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :287 বার!

JS security