সৎ,সাহসী,এক নির্ভীক জননেতার গল্প।

 

 

ছবি দেখেই বুঝা যায় দাবী আদায়ে কতটা আপোষহীন ছিলেন। পুলিশের শত নির্যাতন আর গুলির মুখে ও অটল দাডিয়ে থেকে যে মানুষটি পিছপা হন নি , এক গ্রাম থেকে উঠে এসে সমগ্র সিলেট বাসীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিএনপির দু:সময়ে সিলেটে কানডারীর ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন আমাদের প্রিয় নেতা প্রিয় ভাই , মাটি ও মানুষের নেতা দিলদার হোসেন সেলিম। পুলিশের টানা হ্যাঁচড়ার মুখে যে ভাবে একজন সাবেক এমপি ই শুধু নন সিলেটের বিখ্যাত ক্রীড়া সংগঠককে অপমান করেছে তা সিলেটের রাজনৈতিক হতিহাসকে কলংকিত করেছে। ছবি দেখেই বুঝা যাচ্ছে একটা রাষ্ট্রের শাসকগোষঠী কতটুকু উলংগ হলে এই ধরনের বর্বর অসভ্য কাজ করতে পারে । অবশ্য এগুলা এখন নিত্য নৈমিততিক ব্যাপার হয়ে দাডিয়েছে। আসলে আমাদের দেশটা হয় গেছে রাষ্টীয় নির্যাতনের হাহাকারে ধ্বনিত একখন্ড বিরান ভূমি।বিচার কার কাছেই বা চাইবো! তারপরে ও সবকিছুর একটা শেষ আছে।

মনে পড়ে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামর সেলিম ভাই সবার আগে উপস্হিত হতেন। অনেক দিন আমাদের যাওয়ার আগেই উনি উপস্হিত হয়ে গেছেন। তাকে যখন বললাম আপনি আগে আসবেন না ভাই তখন উনি বলতেন আমি এর জন্যই আসি পুলিশ ধরলে আমাকে আগে নিয়ে যাক যা হবার আমার হবে কিন্তু তোমরা নিরাপদ থাকো।সত্যিকারের একজন নেতা ছিলেন সেলিম ভাই।

২০১৫ সালে আন্দোলনে সভার সময়ের আগেই সেলিম ভাই উপস্হিত হয়ে গেছেন কোর্ট পয়েনটে।চতুর্দিকে পুলিশ ঘিরে রেখেছে সেলিম ভাইকে। আমরা বেশ কয়েকজন কোর্ট পয়েনটে ঢুকার চেষ্টা করছি।কিন্তু পুলিশের প্রচন্ড বাধার মুখে ব্যর্থ হই। হঠাৎ পুলিশ তাকে কোর্ট পয়েনট ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ দিল কিন্তু তিনি বসে গেলেন। বললেন না সভা না করে আমি যাব না।পুলিশ খুব ক্ষিপ্ত হল। বলল না গেলে আমরা গুলি করব।তিনি বললেন কর ও গুলি আমাকে ,তবু ও আমি যাব না। পরে উপস্হিত অনেক সিনিয়র সাংবাদিক অনুরোধ করে তাকে নিয়ে জিনদাবাজারের দিকে চলে যান।

এই ধরনের কত সৃতি সেলিম ভাইয়ের সাথে আছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পর্যন্ত অনেক পোড় খাওয়া অভিজ্ঞতায় সমৃদধ এই নেতার বড্ড প্রয়োজন ছিল আমাদের দলের এই দু:সময়ে।হাইবরিডদের ভিডে কেন জানি হারিয়ে যাচ্ছে এই ধরনের সাহসী ও আপাদমস্তক রাজনৈতিক নেতৃত্ব । আসলে আমরা সিলেট বিএনপি পরিবার আমাদের একজন অভিবাককে হারালাম।
মহান রাব্বুল আল আমিনের কাছে দোয়া করি আললাহ যেন তাকে জানাতুল ফেরদৌস দান করেন। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল,আমিন।

(লেখক- এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ,সদস্য- সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতি।সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক-সিলেট জেলা বিএনপি।)

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :234 বার!

JS security