হাফিজ পরিচয়ে অভিনব প্রতারণা! 

গ্লোবাল সিলেট ডেস্ক:- সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের মকদ্দছ আলীর পুত্র আহামদ ওরফে হোসাইন। আহমদকে   দেখতে আলেম মনে হলেও আসলে সে একজন প্রতারক। বিভিন্ন শহরে শহরে ঘুরে ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণের শরনাপন্ন হয়ে নিজেকে একজন কোরআনের হাফেজ পরিচয় দিয়ে নিজের অভাব অনটন ও পড়ালেখার খরচের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়াই তাহার পেশা। ধর্মপ্রাণ মানুষ তার প্রতারণা বুঝতে না পেরে হাজার হাজার টাকা তুলে দেয় তার হাতে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দিরাই সেন মার্কেট সহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট হতে বহু টাকা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। সেন মার্কেটের ব্যবসায়ী আনহার মিয়া বলেন, আমাদের মার্কেটের ব্যবসায়ী জুবের সরদার দিগন্ত, রুহুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, আলমগীর মিয়া সহ বহু ব্যবসায়ীদের নিকট হতে অনেক টাকা নিয়ে গেছে এই প্রতারক। আমরা এর প্রতারণার ব্যাপারটি বুঝতে পারিনি। নিজেকে হাফেজ পরিচয় দিয়ে কোরআন হাদিসের কথা বলে, বিভিন্ন মসজিদে তারাবীহ নামাজের ইমামতি করেছে জানিয়ে টাকা চাওয়াতে অনেকেই সরলমনে বিশ্বাস করে নেয়। আমরা সাধারণত মনে করি আল্লাহ এবং কোরআন হাদিসের কথা বলে কেউ প্রতারণা করতে পারে না। ডা: মিজানুর রহমান বলেন, ছেলেটি একদিন আমার কাছে এসে নিজেকে হাফেজ পরিচয় দিয়ে অসুস্থ্যতার কথা জানালে আমি বিনা খরচে তার চিকিৎসা করি। চিকিৎসার পর আমার নিকট টাকা চাইলে আমি তাকে একশত টাকা দিয়ে দেই। ব্যবসায়ী আনহার মিয়া সহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আহমদকে প্রায়ই দিরাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় টাকা তুলতে দেখে তাদের মনে সন্দেহের উদ্রেগ হওয়াতে একদিন সেন মাকের্টে তাকে আটক করে তার পিতা মকদ্দছ আলীকে সংবাদ দিয়ে দিরাই আনিয়ে তার পিতার নিকট থেকে এবং গাজীনগর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে আহমদ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আহমদ একজন প্রতারক। প্রতারণা করাই তার পেশা। আহমদের শিক্ষক হাফিজ আখলাক জানান, আহমদ কিছুদিন তার কাছে অধ্যয়ন করেছে, পরবর্তীতে সে চলে যায়। সে হাফেজ হয়নি। তার নৈতিক চরিত্র ভাল নয়। তার প্রতারণার বিষয়টি তিনিও অবগত বলে জানান। আহমদের পিতা মকদ্দছ বলেন, আহমদকে শুধরানোর জন্য অনেক চেষ্ঠা করছি, কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। নিজের ছেলের কৃতকর্মের জন্য উপস্থিত সকলের নিকট তিনি দুঃখপ্রকাশ করে নিজের ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান এবং ভবিষ্যতে আহমদের ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেন।

সূত্র:- কলম শক্তি ডটকম

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :330 বার!

JS security