৩ হাজার কোটির প্রলোভন দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাত

নিজস্ব প্রতিবেদক :- ‘বাংলাদেশ থেকে তিন হাজার কোটি টাকার একটি দুর্লভ বস্তু আমেরিকায় বিক্রি করা হয়েছে। আমেরিকার কাছ থকে এই টাকা আনতে হলে তিন শত সদস্যের একটি কমিটি লাগবে। প্রত্যেক সদস্য কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে দিতে হবে। কেউ চাইলে বেশিও দিতে পারেন। এভাবে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের শত কোটি টাকার ফান্ড হয়ে গেলেই আমেরিকা সরকারকে জানানো হবে। এরপরই আমেরিকা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে তিন হাজার কোটি টাকা। পরে বিনিয়োগ অনুযায়ী টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হবে। কেউ চাইলে এই টাকা দিয়ে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে ফ্ল্যাট বাড়িও কিনতে পারবেন।

অভিনব এই প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। র‌্যাবের হাতে ওই চক্রের দুই সদস্য আটকের পর অভিনব এই প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়।
প্রতারকদের বিষয়ে এমন তথ্যই জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান।
গত শুক্রবার র‌্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা ঢাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের যে দুই সদস্যকে আটক করেন তারা হলেন- মৌলভীবাজার জেলা সদরের জগতপুরের মৃত সোনাউর মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হাজীমাদাম গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে মাসুদ রানা।
র‌্যাব জানিয়েছে, প্রতারক চক্র সরকারি বিভিন্ন দফতরের জাল সীল, কাগজপত্র ও অবৈধ পাসপোর্ট তৈরি করে মানুষকে দেখাতো। এমনটি আমেরিকার বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি এসেছে দাবি করে বিভিন্ন জাল কাগজপত্র দেখিয়ে লোকজনকে বিশ^াস করাতো। যারা টাকা দিয়ে সদস্য হতেন তারা সাথে ঘটনাটি গোপন রাখেন সেজন্য ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নিতো প্রতারক চক্র।
র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই চক্রের আরো যেসব প্রতারক রয়েছে তাদেরকে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদেরকে সনাক্ত করে আটক করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
এসব প্রতারকদের দেখানো প্রলোভন থেকে জনসাধারণকে সজাগ থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :167 বার!

error: Content is protected !!
JS security