৪৫ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী পেশাগত সনদের অপেক্ষায়

সুরভী সুলতানা। রাজধানীর সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন ২০১৭ সালে। এরপর ইন্টিমেশন ফরম জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পেশাগত সনদ পাওয়ার যুদ্ধ। গত মাসেই সুরভী পেয়েছেন তার রেজিস্ট্রেশন কার্ড। তবে কোনো ঘোষণা না আসায় এখনো পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ করতে পারেননি। পরীক্ষা কবে হবে তাও জানেন না। শুধু সুরভী নন, রেজিস্ট্রেশন করে সনদের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন এমন প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষানবিস আইনজীবী। তাদের প্রায় ২৫ হাজার এরই মধ্যে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে ব্যাংকে নির্ধারিত ফিও জমা দিয়েছেন। কিন্তু আট মাস ধরে ফরম পূরণ বা পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিধি অনুযায়ী, এলএলবি পাসের পর বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল আইনজীবী হিসেবে নিম্ন আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনা করার সুযোগ মিলবে। এজন্য প্রথম ধাপে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষানবিস হিসেবে ন্যূনতম ছয় মাস কাজ করতে হবে। এরপর তাকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। ওই পরীক্ষায় পাস করলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর আইনজীবী তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে বার কাউন্সিল। আইন পেশা পরিচালনার জন্য দেশে বার কাউন্সিলই সনদ প্রদানকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর সর্বশেষ বার কাউন্সিলের নৈর্ব্যক্তিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৪ হাজার ৩৮৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৮৪৬ জন কৃতকার্য হন। পরে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় মৌখিক পরীক্ষার ফল। এতে সাত হাজার ৭৩২ জন উত্তীর্ণ হন। প্রতিবছর দুটি ব্যাচের পরীক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু গত পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আট মাসেও নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি বার কাউন্সিল। বার কাউন্সিলের নিজস্ব ভবন ভেঙে ফেলার পর বর্তমানে কাউন্সিলের কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বাংলামোটর ও পরীবাগে ভাড়া নেওয়া দুটি ভবনে। ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয় বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায়। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) পরীক্ষার খোঁজ নিতে প্রার্থীরা প্রতিদিন বার কাউন্সিলে ভিড় জমাচ্ছেন। ২০১৭ সালে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা দিয়ে যারা উত্তীর্ণ হননি, এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৫৭ জন। তাদের সঙ্গে গত তিন বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও নতুন ব্যাচে এনরোলমেন্ট পরীক্ষা দিতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ হাজারেরও বেশি। জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষানবিস আইনজীবী সুরভী সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৭ সালে এলএলবি পাস করার পর দুই বছর হয়ে গেল। এখনো পর্যন্ত বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাই দিতে পারলাম না। কবে আইনজীবী হিসেবে সনদ পাব সেটা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তা। পরীক্ষা ও ফরম ফিলাপের তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে বার কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সচিব (উপ-সচিব) আফজালুর রহমান বলেন, ফরম ফিলাপ বা পরীক্ষার কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে কেউ ফরম ফিলাপের টাকা দিতে চাইলে তাদের টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সব সিদ্ধান্তই নেয় কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি। ওই কমিটির সিদ্ধান্তই বার কাউন্সিল প্রশাসন নোটিস বোর্ডে টাঙিয়ে দেয়। শিগগিরই পরীক্ষার তারিখ আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

 সূত্র :- বাংলাদেশ প্রতিদিন

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :91 বার!

error: Content is protected !!
JS security