আজ ‘কাশ্মীর বন্ধীত্বের ও অধিকার হারানোর-১মাস

এস এম ওয়াহিদুল ইসলামঃ-
ভারতীয় উগ্রবাদী হিন্দুদের প্রতিনিধিত্বকারী মোদি সরকারের একতরফাভাবে বিশেষ মর্যাদা -সম্পন্ন স্বায়ত্তশাসিত একমাত্র মুসলিম রাজ্য কাশ্মীরের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার আজ ১মাস পূর্ণ হলো।
পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীর এখন জ্বলছে সাম্প্রদায়িকতার আগুনে। কাশ্মীরের আকাশ এখন বারুদের ঝাঁঝালো উৎকট গন্ধে উপত্যকার জনগোষ্ঠী শ্বাসরুদ্ধ!
মজলুম মুসলিম জনগোষ্ঠীর আর্তচিৎকার ইতারে ছড়িয়ে ধ্বনিত হচ্ছে বিশ্বময়-!
কিন্তু বিশ্বমানবতার ফেরিওয়ালারা আশ্চর্যজনক নিরবতা পালন করছে! তারচেয়ে অবাক করা বিষয় মুসলিম বিশ্বের ধৃষ্টতাপূর্ণ উদাসীনতা! উম্মাহর হ্নদয়ের রক্তক্ষরণ ঘটেছে ৫আগষ্টের পরে মধ্যপ্রাচ্যের দুই মুসলিম রাষ্ট্রের মোদি’কে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান।
একমাত্র মুসলিম প্রতিবেশী পাকিস্তান শুরু থেকেই প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ।
তুরস্ক ও মালয়েশিয়া এবং ইরান পাকিস্তানের পাশে থেকে কাশ্মীরীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদ-নিন্দা জানিয়ে গভীর ঘুমে মগ্ন-!
একটি জনপদে আজ ১মাস হলো ইন্টারনেট, টেলিফোন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ -!
সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ, এমনকি প্রধান বিরোধী দলের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীকে সম্মিলিত বিরোধী জোটের নেতা সহ কাশ্মির রাজ্যে সফর করতে দেওয়া হয়নি, বিমান বন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা-!
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সহ সব-কটি দলের প্রথম সারির নেতাকর্মী হয়তো গ্রেফতার নতুবা গৃহবন্দী।
প্রধান প্রধান মসজিদ মাদ্রাসা সহ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে মোদির পেটুয়া বাহিনী।
প্রতি রাতে বাড়ি-বাড়ি সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যুবকদের গ্রেফতার করে জেলে পুরছে অত্যাচার নির্যাতন করছে। যুবতী মেয়েদের যৌন হয়রানি ও অপদস্ত করার ব্যাপক অভিযোগ উঠছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে।
দোকানপাট বন্ধ, কাজ বন্ধ, স্থবির গোটা কাশ্মীরি উপত্যকা।
তারপরও মুদি সরকার বলছে কাস্মীরের সব স্বাভাবিক আছে আর আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো তাবত দুনিয়া তা হয়তো বিশ্বাস করেছে নতুবা না বুঝার ভান করে উটপাখির মতই বালিতে মুখ গুজে বসে আছে! কারণ নির্যাতিতরা ‘মুসলিম’ তাহলে মুসলিমদের মানবতা কি থাকতে নেই-?
গুজরাটের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে হাজার হাজার মুসলমান খুনের প্রধান নায়ক নরেন্দ্র মোদি হিন্দু ইজমের ঘেরাটোপে ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্রে কালিমা লেপন করে একদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে অপর দিকে স্বধর্মীদেরও শ্রেণি বিভাজন সৃষ্টি করে সামাজিক গোলযোগ তরান্বিত করে ধর্মীয় ভিত্তিতে জঙ্গি রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত করছে ভারতকে। ২য় দফা ক্ষমতাসীন হয়েই ৪৭ সালে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সাথে একিভূত হওয়া (৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫ ধারা যা কাশ্মীরিদের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাকবচ) কাশ্মীরকে কলমের আছরে নাটকীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন রাজ্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে দখল করে নিলেন উগ্রবাদী হিন্দু জঙ্গি নেতা মোদির সরকার।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক কৃত এলাকা ও বিচ্ছিন্ন জনপদের বর্তমান অবস্থা বুঝাতে নিম্নে দুইটি উদাহরণ পাঠদের জন্য পাত্রস্থ হলো।
১) বিবিসি’র অনুসন্ধানে কাশ্মিরিদের উপর ভারতীয় দখলদার বাহিনীর অত্যাচারের কিছু ঘটনা —- সাক্ষাৎকারে অনেক তরুণ তাদের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন– তারা আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পিটিয়েছে। লাথি মেরেছে, লাঠি দিয়ে বেদম পিটিয়েছে, বৈদ্যুতিক শক দিয়েছে। শিকল দিয়ে বেধড়ক আঘাত করেছে। পা দিয়ে পেছনে লাথি মেরেছে। যখন আমরা মূর্ছা গেছি, জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে শরীরে
বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছে।’
নিজের আঘাত দেখিয়ে আরেক কাশ্মীরি বলেন, তাকে মাটির সঙ্গে চেপে ধরে ১৫-১৬ সেনাসদস্য শেকল, লাঠি ও বন্দুক দিয়ে পিটিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি অর্ধচেতন হয়ে পড়লে তারা আমার দাড়ি ধরে এমন হেঁচকা টান দিয়েছে, আমার সব দাঁত পড়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।
২) সিবিআই’ এমএলএ’র নেত্রী কবিতা কৃষ্ণা ঈদুল আজহা ২০১৯ উপলক্ষে কাশ্মীর গিয়েছিলেন সেখানের জনগণের ঈদের সুখ-দুঃখ পর্যবেক্ষণ করতে। তিনি কাশ্মীরে বিভিন্ন শ্রেণীর নারী-পুরুষের সাথে কথা বলেন এবং বিভিন্ন চিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন। তাঁর খুব ইচ্ছে ছিলো এই চিত্রগুলো দিল্লির প্রেসক্লাবে প্রদর্শনী করে কেন্দ্রের সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজকে জানাবেন প্রকৃত অর্থে কাশ্মীরের জনগণ কেমন আছে এবং তারা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ব্যাপারে কি ভাবছে। কিন্তু প্রেসক্লাব অফ ইন্ডিয়া তাকে সেই অনুমতি দিলো না। অতঃপর তিনি বিভিন্ন মিডয়ার সামনে নিজের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। ভারতের নিউজ মেক্স তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁকে মেক্স-এর সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি তো ঈদকে সামনে নিয়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন, কি অবস্থা দেখলেন সেখানে? তিনি বলেন, অবস্থা খুবই খারাপ, যার কোন উপমা হয় না। সেখানে মানুষ পূর্ণাঙ্গরূপে বন্ধি। সমস্ত কাশ্মীরকে বলা যেতে পারে একটি জেলখানা। তাই আমরা আমাদের প্রতিবেদনের নাম দিয়েছি ‘বন্ধীত্বে কাশ্মীর’।
এপর্যন্ত যেসব তথ্য আসছে তারচেয়ে বেশী ভয়াবহ অবস্থা কাশ্মীরে। বাহিরের নেতা-নেত্রী, সাংবাদিক, মানবাধিকার নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ দেশ বিদেশের কাউকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা উপরন্তু ইন্টারনেট, টেলিফোন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে ভারত আদিম যুগে নিয়ে গেছে কাশ্মীরি উপত্যকা কে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং স্বজাতি হিসাবে মুসলিম রাষ্ট্র গুলো যদি নির্যাতিত কাশ্মীরি মুসলমানদের রক্ষায় এবং তাদের স্বাধীকার আন্দোলনে পাশে না দাঁড়ায় তাহলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবেনা।
লেখকঃ
এস এম ওয়াহিদুল ইসলাম
প্রধান সম্পাদক
দৈনিক জনতার কন্ঠ ও
গ্লোবাল সিলেট ডটকম।
সিলেট, ৫ আগষ্ট, ২০১৯

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :119 বার!

error: Content is protected !!
JS security