ইতালির পর এবার স্পেনে সরাসরি জাহাজ যাবে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে

ইতালির পর এবার স্পেনের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন এই রুটে চলাচলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনটি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে। আগামী মে মাসে স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে আসা জাহাজ দিয়ে এই রুটের যাত্রা শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অনুমতি দেওয়া জাহাজ তিনটি হলো জার্মানির পাতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি স্পাইকা। ১৫১ মিটার লম্বা এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার গভীরতার জাহাজটি সাড়ে ৭শ একক কনটেইনার ধারণ করতে পারে। এছাড়া সাইপ্রাসের পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজ হলো এন্ড্রোমিডা জে। ১৪০ মিটার লম্বা এবং ৬ দশমিক ৮ মিটার গভীরতার এই জাহাজটি সাড়ে ৮শ একক কনটেইনার বহন করতে পারে। অন্যদিকে আরেকটি জাহাজ হলো পর্তুগালের পতাকাবাহী জাহাজ মিউজিক। এই জাহাজটি ১৪০ মিটার লম্বা এবং ৬ মিটার গভীরতার, এটি ৪০৩ একক কনটেইনার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইউরোপের স্পেনের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চালুর অনুমতি দিয়েছে। এ রুটে সরাসরি জাহাজ চালু হলে গার্মেন্টস কারখানাগুলোসহ স্পেনে পণ্য পাঠানো বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশাল একটি সুখবর। এই রুটে মাত্র ২১ দিনে পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে যে জট চলছে তা এড়িয়ে এবার স্পেনে খুব দ্রুত পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে। এতে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে সরাসরি পণ্য পরিবহনের এই সার্ভিস দেখে ইতিমধ্যে ইউরোপের ডেনমার্ক, পর্তুগাল ও সলভেনিয়া দেশগুলোও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনি জুনের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চালুর একটি ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দরের বিশ^স্ত সূত্র।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-ইতালি রুটে সরাসরি জাহাজ পরিচালনার জন্য দুটি জাহাজের অনুমোদন দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই দুটি জাহাজ ভাড়া করে ইতালিয়ান শিপিং কোম্পানি ক্যালিপসো কোম্পানি ডি নেভিগেশন এসপিএ।

এতদিন চট্টগ্রাম থেকে একটি রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার প্রথমে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর যেমন: সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ ও তানজুম পেলিপাস যেত। সেখান থেকে আরেকটি বড় জাহাজে তুলে ইউরোপ যেতে ৩০-৩৫ দিন সময় লাগতো, ভোগান্তিও হতো। এখন কোন বন্দরে বিরতি ছাড়াই ১৬ থেকে ২০ দিনেই পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :72 বার!

JS security