করোনা’র মোহনায় বাতায়ন খুলে দাও


এম আবুল হোসেন শরীফ :-

ঘৃণিত করোনার ছোবলে বিশ্ববাসী আজ হতবাক। বর্জুয়া এবং সাম্রাজ্যবাদী শাসনে পৃথিবীর মানবজাতি যখন নিষ্পেষিত, শক্তির মহড়ায় প্রতিযোগিতা যখন মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়ের ব্যাপক বিস্তার নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আগ্রাসনে উম্মাদ, মানবতা যেখানে ভূলুণ্ঠিত, অস্ত্রের ঝনঝনানি ব্যবসার মূল হাতিয়ার, বর্ণবাদের নতুন ধারা যখন বিশ্বায়নের যুগে বিভাজনে তৎপর, নীরবে নিভৃতে নির্যাতিত সৃষ্টির সেরা মানবের কুলের আর্তনাদ, পুঁজিবাদের অট্টালিকা অপরদিকে বস্তুহারা নিঃস্ব মানুষ, ভারসাম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা, ভঙ্গুর সমাজের অস্থিরতা, আমরা যারা ভাগ্যবান, জীবনে দুটি শতক পেয়েছি।

দেখেছি ঊনিশ শতকের বিশ্বায়নের মানবসৃষ্ট অস্থিরতা এবং বিশ শতকের শুরুতে তারই প্রতিফলন। আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জাতি, ভুলে গেছি দায়িত্ব এবং কর্তব্য। যুগে যুগে এই মানব জাতি যখন তার কর্তব্য এবং দায়িত্ব থেকে পদস্খলন ঘটে তখনই স্রষ্টা তার সৃষ্টিকূল কে স্মরণ করিয়ে দিতে চান মানুষ কেন সৃষ্টির সেরা। সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহতালা, এখানে সবখানে তারি রাজত্ব বিরাজমান। বৈশ্বিক এই সমস্যা আজকে সকলকে তাড়িত করছে। জীবনে নেই কোন আনন্দ। অস্থিরতা এবং উৎকণ্ঠায় প্রতিটা মুহূর্তে আমরা আজ বিচলিত। করোনার ক্ষমতাধিকার প্রচন্ড শক্তি গুলোকেও হার মানিয়েছে। দিশেহারা শক্তির উৎসগুলো। বেঁচে থাকাটা সকলের কাছে আজ যেন পরম চাওয়া। আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। মহান আল্লাহ, সর্বশক্তিমান।

এই নশ্বর পৃথিবীতে আমরা তার আদেশ পালনকারী, এটাই আমাদের দায়িত্ব। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় কত না কিছু ঘটে, করোনা’তারই অংশ। করোনার ছোবলে এযাবতকালে প্রাণহানি রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচতে প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব কর্মকৌশলে গাইডলাইন দিচ্ছে। আমরাও ঘরে অবস্থান কর্মসূচিতে আছি। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো চরম বিপাকে। ধুমড়ে-মুচড়ে একাকার নিঃসম্বল পরিবারগুলো। এরই মধ্যে আর্তমানবতার ক্রান্তি লগ্নে সুহৃদ, উদার, দানশীল ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছেন। মানুষ, মানুষের জন্য।
জীবন, জীবনের জন্য।
আসুন আমরা যে যার অবস্থান থেকে একে অন্যকে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেই। মনে রাখবেন এটা কোন করুণা নয়,
সৃষ্টিকর্তার দেওয়া কর্তব্য।
ঘরে অবস্থান করুন, সতর্ক থাকুন।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :245 বার!

JS security