কর্মী সংকটের জেরে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ব্রিটেনে

ব্রিটেনের সুপারমার্কেট, পাইকারি বিক্রেতা ও মালামাল বহনকারী হোলিয়াররা স্থায়ী খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার থেকেই জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ থেকে করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা কয়েক লাখ শ্রমিককে আইসোলেট করতে বলার পরেই এই অবস্থা তৈরি হয় সেখানে।

ব্রিটিশ খবরের কাগজে সুপারমার্কেটের প্রথম শেলফ ফাঁকা থাকা ছবি প্রকাশিত হয়। তবে রয়টার্সের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বোতলজাত পানি, কোমল পানীয় এবং কিছু সালাদ এবং মাংসজাতীয় পণ্যের অভাব থাকলেও লন্ডনের দোকানগুলিতে খাবার আইটেমগুলি বেশ সহজলভ্য ছিলো। 

সেখানকার বিজনেস সেক্রেটারি ওয়াসি ওয়ারটেং বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই সতর্ক। আমরা পরিস্থিতি পযবেক্ষণ করছি। তবে তিনি মার্কেটের খালি তাকগুলোর ধারণা এখনও বুঝতে পারেননি ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দাবি তিনি ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আবারও চালু করতে পারেন। দেশে এত মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে যে তথাকথিত ‘পিংডেমিক’ শব্দটি দ্বারা যাদের ১০ দিন করে আইসোলেশনে রাখার কথা বলা হয়েছে তাদের কলঙ্কিত করা হয়েছে।

করোনার জন্য কর্মীদের কমিয়ে ফেলার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন খাদ্য সরবরাহ, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট , পানশালা এবং উৎপাদনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে অনেকেই তাদের ফোন থেকে অ্যাপটি মুছে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলেছেন, অ্যাপটি ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং কিছু কর্মীকে আবারও করোনাভাইরাস সংক্রমণ তীব্র হওয়ায় কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। বুধবারও সেখানে ৪৪,০০০ এরও বেশি জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

অনেক ব্যবসায়ীর মতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যাচ্ছে। একটি মাংস শিল্প সংস্থা বুধবার বলেছে, ব্রিটেনের খাদ্য সরবরাহের চেইনগুলি ‘ব্যর্থতার প্রান্তে’ কারণ করোনা সংক্রমণের কারণে তীব্র শ্রমের সংকট দেখা দিয়েছে। 

কর্মী সংকটে নিজেদের কয়েকটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সুপারমার্কেট গ্রুপ আইসল্যান্ড। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সুপার মার্কেট কর্মীদের পিংডেমিক এর বাধ্যবাধকতার আওতামুক্ত রাখার জন্য । এ ব্যাপারে আজকের মধ্যেই পিংডেমিক আওতামুক্ত কর্মীদের নতুন লিস্ট প্রকাশ করা হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানিয়েছেন ।

ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের খাদ্য পরিচালক অ্যান্ড্রু ওপি বলেছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, খুচরা শ্রমিক এবং সরবরাহকারীরা এই মহামারী জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যদি তাদের ভ্যাকসিনের দুই ডোজ দেওয়া হয় বা করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে পারে তাহলে তাদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। তাহলেই জনসাধারণের খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য প্রাপ্তির দাবি মেটাতে  কোনও বিঘ্ন না ঘটা নিশ্চিত করা যাবে।

এদিকে সকল সুপারমার্কেটে কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছে তারা যেন কেনাকাটার ক্ষেত্রে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য কেনা থেকে বিরত থাকেন । 

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :24 বার!

JS security