চা শ্রমিকদের কাছে, চিঠি আসে ইংরেজিতে


চা বাগানগুলো গড়ে উঠেছিলো ব্রিটিশ আমলে। ব্রিটিশ কায়দা-কানুন এখনও ভুলতে পারেনি ডানকান ব্রাদার্সের আলীনগর ও শমসেরনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ। যে বাগানের শ্রমিকরা কোনোমতো টিপসই দিয়ে কাজ চালান তাদের কাছে বাগানের চিঠিপত্র যায় ইংরেজি ভাষায় শ্রমিকদের জবাবও দিতে হয় ইংরেজিতে। কোনো কারণে শ্রমিকদের কোনো নিয়ম পালনে ভুল হলে কিংবা কাউকে সতর্ক করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ চিঠি দেয়। এটা শ্রমিকদের কাছে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট সময়ে এই চিঠির জবাব দিতে হয়। ইংরেজিতে লেখা এই চিঠি নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় শ্রমিকদের। চিঠির মর্মার্থ উদ্ধারে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হয় তাদের। যাদের বেশিরভাগই কেবল নিজেদের নাম লিখতে পারেন আর বাকি কাজ চালান টিপসইয়ে তাদের কাছে এ যেন এক বিভীষিকা!
ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন শমশেরনগর, আলীনগর চা-বাগানে কর্মরত সরস্বতী রবিদাস, দেওরাজ রবিদাস, রাজদেও কৈরী, চা শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সীতারাম বীনসহ একাধিক শ্রমিক জানান, তাদের প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও নেই। কেউ কেউ কোনো মতে নাম লিখতে শিখেছে। অন্যরা টিপসই দিয়ে কাজ চালিয়ে যান। ইংরেজি বুঝার মতো চা-বাগান খোঁজে দু’একজন লোক পাওয়াও দুরহ। এ অবস্থায়ই তাদের অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ইংরেজিতে। যার কিছুই তারা বুঝেন না। ইংরেজিতে দেওয়া অভিযোগপতের বিষয়বস্তু বুঝতে এবং জবাব লিখতে বাগানের বাইরের শিক্ষিত লোকদের কাছে গিয়ে ধর্না দিতে হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) ও ব্যক্তি মালিকানাধীন চা-বাগান সমুহে অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ ইংরেজিতে হলেও চা শ্রমিকদের অভিযোগপত্র বা কাগজপত্র বাংলাতেই প্রদান করা হয়। তবে ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন চা-বাগান এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এ বাগানগুলোতে অভিযোগপত্রের ক্ষেত্রে এখনও ইংরেজি বহাল রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ইমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘চা শ্রমিকদের ইংরেজিতে চিঠিপত্র পদানের বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারে প্রদত্ত আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, শমশেরনগর সহ দেশের বিভিন্ন চা-বাগানে ঔপনিবেশিক আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইচ্ছে করে এই ধারা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ইংরেজি চার্জশিটের ফলে চা শ্রমিকদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। চা-বাগানে উচ্চ আদালতের এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হওয়া উচিত।
ইংরেজিতে চার্জশিট প্রদান সম্পর্কে জানতে চেয়ে শমশেরনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের একজন স্টাফ জানান, দীর্ঘ সময় ধরেই ইংরেজিতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হচ্ছে। এটি পরিবর্তন কিছুটা সময় সাপেক্ষ।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :53 বার!

JS security