জুড়ীতে ধাত্রীর বিরুদ্ধে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, জুড়ী :  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে এক ধাত্রীর বিরুদ্ধে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ধাত্রী জুলেখা বেগমের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রসূতির স্বামী জয়নুল ইসলাম ।‌ এ ঘটনা উপজেলায় টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছে।‌

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের মৃত: সমছ উদ্দিনের ছেলে জয়নুল ইসলামের স্ত্রী রুনা বেগমের (১৯) প্রথম সন্তান প্রসবের ব্যাথা শুরু হলে ধাত্রী জুলেখা বেগম চার হাজার টাকার চুক্তিতে প্রসূতির বাড়িতে যান। ‌
সারারাত চেষ্টা করেও ডেলিভারী করাতে না পারায়
প্রসূতির স্বামী জয়নুল ইসলাম বার বার তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার কথা বললেও ধাত্রী জুলেখা তার কথায় কর্ণপাত না করে বাড়িতেই নরমাল ডেলিভারি হবে বলে আশ্বস্ত করেন। ‌

প্রসূতির স্বামী জয়নুল ইসলাম জানান, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চেষ্টার পরও ডেলিভারি না হওয়ায় প্রসূতি এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।‌ তখন ধাত্রী জুলেখা বেগম প্রসূতিকে হাসপাতালে নেবার জন্য গাড়ি আনতে বলেন।‌ পরে তাড়াহুড়া করে প্রসূতিকে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার‌প্রসূতি ও তার গর্ভজাত নবজাতকে মৃত ঘোষণা করেন। ‌

প্রসূতির স্বামী আরও বলেন, আমার স্ত্রী রুনা বেগম ও গর্ভজাত সন্তান ‌ সম্পূর্ণ সুস্থ্য ছিলো।‌ রাতে আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা শুরু হলে ধাত্রী জুলেখা বেগমকে চার হাজার টাকার চুক্তিতে বাড়িতে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর অবস্থা যদি এতোটাই খারাপ ছিল তাহলে জুলেখা বেগম তাকে হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রাখার ঝুঁকি কেন নিলো।‌ আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। ‌এ বিষয়ে ধাত্রী জুলেখা বেগম বলেন, হাজার হাজার  স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করালে দুই-একটা সমস্যা হতেই  পারে। এতে কারো হাত নেই ।‌

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সমরজিৎ সিংহ বলেন, প্রসূতি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন। প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :154 বার!

JS security