নগরীতে অতিরিক্ত দেড় লাখ মানুষ, হোটেলে রুম না পেয়ে বিপাকে আগতরা-Global-Sylhet

 

সিলেট প্রতিনিধি:- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষা শনিবার (১৩ অক্টোবর)এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ১৬০ জন। সেই সাথে যদি আসেন সমসংখ্যক অভিভাবক। তাহলে সব মিলিয়ে সিলেট আজ অতিরিক্ত দেড় লাখ মানুষের শহর!ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে শুক্রবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। সিলেটমুখী শিক্ষার্থীর স্রোত রাত হলে আরো বাড়ে। চলবে সকাল পর্যন্ত।আর একারনেই সিলেটের আবাসিক হোটেলগুলোতে মিলছে না রুম। হঠাৎ করে যারা রোগী বা ব্যাক্তিগত কাজে সিলেট এসেছেন তারা হোটেলের রুম না পেয়ে পড়েছেন বিপাকে। বেশীর ভাগ হোটেলের রুম ছিলো দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বুকিং তাই জায়গা দিতে পারছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে মীরবক্সটুলায় অবস্থিত হোটেল সিলেট ইন এর কর্মকর্তা জানান-মিনিমাম এক সপ্তাহ আগে থেকে সিলেটের সবগুলো আবাসিক হোটেলগুলো বুকিং হয়ে যায়, তাই আজ কোনো হোটেলেই রুম পাওয়া প্রায় অসম্ভব।তিনি জানান, শনিবার পরীক্ষার পরও হোটেলগুলো তেমন খালি হবে না, কারন বাইরে থেকে আসা অনেক পরীক্ষার্থী সিলেট ঘুরে দেখবেন।খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে- শুক্রবার সকাল থেকে যারা সিলেটে এসেছেন তাদের প্রায় সবারই হোটেল বুক করা ছিল। তাদের ৫ থেকে ৬ হাজার শিক্ষার্থী উঠেছে আবাসিক হোটেলে। বাদবাকি আরো কিছু উঠবে পরিচিতজনদের বাসায় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকা বড় ভাইদের সাথে। তাছাড়া বাকী সবাই ঘুমহীন রাত কাটাবে শহরের এখানে সেখানে। ফলে শহর জুড়ে তৈরি হবে অন্য এক আবহ।এছাড়া আরো বেশ কিছু সংখ্যক পরীক্ষার্থী শনিবার সকালে এসে দুপুরের পরীক্ষায় অংশ নেবে।এদিকে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে সিলেট শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন- পুরো শহরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। রাস্তায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে এজন্য ট্রাফিক পুলিশ থাকবে সতর্ক অবস্থায়। এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষার হলে থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন।এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার জানান, ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে বিভাগীয় পুলিশ কমিশনারের নিকট বিশ্ববিদ্যালয় হতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রেই বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পরীক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর বিভিন্ন রাজনৈতিক, আঞ্চলিকসহ অন্যান্য সংগঠনের সব ধরণের মিছিল, সমাবেশ, শোভাযাত্রা, ব্যানার ও টেন্ট নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভর্তি জালিয়াতি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শক্ত অবস্থানে আছে।ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবারের ভর্তি যুদ্ধে ৭৬ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। মোট ৫৩ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৬১৩টি ও ‘বি’ ইউনিটে ৯৯০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এছাড়া ইউনিটভুক্ত আসন ছাড়াও সংরক্ষিত আসনে সর্বমোট ১০০ জন শিক্ষার্থী (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ২৮ জন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/জাতিসত্ত্বা/হরিজন-দলিত কোটায় ২৮, প্রতিবন্ধী কোটায় ১৪, চা শ্রমিক কোটায় ৪, বিকেএসপি কোটায় ৬ ও পোষ্য কোটায় ২০) বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হবে। ‘এ’ ইউনিটের ৬১৩টি আসনের বিপরীতে ২৮ হাজার ৮০৩ জন এবং ‘বি’ ইউনিটে ৯৯০টি আসনের বিপরীতে ৪৭ হাজার ২৬৫ জন আবেদন করেছেন। শনিবার সকাল নয়টায় এ ইউনিটের ও দুপুর দুইটায় বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :574 বার!

error: Content is protected !!
JS security