পাপিয়ার অর্থের তথ্য চেয়ে ৫৯ ব্যাংকে দুদকের চিঠি

গ্লোবাল ডেস্কঃ- যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামীর অর্থের তথ্য জানতে দেশি-বিদেশি ৫৯টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে দুর্নীনি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার দুদকের উপ-পরিচালক শাহিন আরা মমতাজ স্বাক্ষরিত চিঠিটি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয় বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদক সূত্রটি জানায়, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এই দম্পতির বাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ-এর কাছে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দেশি-বিদেশি ৫৯টি ব্যাংকের কাছে পাপিয়া দম্পতির নিজ, যৌথ, তারে মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা চলতি হিসাব, মেয়াদি আমানত, কেওয়াইসি ফরম ও এসব ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণ চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে ওইসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে দুদকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর আগে, গত ২ মার্চ ওয়েস্টিন হোটেলে পাপিয়ার গেস্টরে নাম ও যাবতীয় বিল-ভাউচারের কপি চেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয় দুদক। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এখনো পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, পাপিয়া কর অঞ্চল-১০ এর আওতায় নিয়মিত আয়কর নথি জমা দেন। পাপিয়ার ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দাখিল করা আয়কর বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। আর মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

বিদেশে অর্থ পাচারসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা ও বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ পাচার এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে পাপিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে একটি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়া ওরফে পিউসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। বাকিরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা।

রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ পাপিয়া দম্পতির নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের সন্ধান পায় র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে ফার্মগেটে ইন্দিরা রোডে এ দম্পতির বাসা থেকে পিস্তল, গুলি ও গুলির ম্যাগজিন, বিিেশ মদ, ৫৮ লাখ টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক উদ্ধার করে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :161 বার!

JS security