পাসপোর্ট ছাড়া পাইলট আর হাসপাতালে বোমা – আমাকে ভাবাচ্ছে!

ইমতিয়াজ আমিন:-পাসপোর্ট সঙ্গে না নিয়ে বিদেশে অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে যাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন পাইলকে আটকে দিয়েছে কাতার ইমিগ্রেশন। বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে অবস্থান করছেন। অপর একটি বেসরকারি বিমানের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট পাঠিয়ে তাকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে সেদেশের ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়।

পরে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।পাসপোর্ট ছাড়া একজন পাইলট কীভাবে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ গেলেন এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে।

তোলপাড়ের পাশাপাশি এ ঘটনাটি কী কেবলই একটি ভুল নাকি অন্যকিছু তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরী হচ্ছে।কেননা এর আগেও প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির মতো ঘটনা ঘটেছে এবং সেটি যে ষড়যন্ত্র ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সয়ং তা জানিয়েছিলেন।

২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমিনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার কয়েকদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে বহনকারী বিমানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ মূলত গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। পূর্ব পরিকল্পনামাফিক এ ঘটনা ঘটানো হয়। ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করতে না পারলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সেটিই চেয়েছিল।

এদিকে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কক্ষের সামনে থেকে পেট্রলবোমা উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় বোমাটি পাওয়া যায়।এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।ঘটনার পর খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

এখন কথা হচ্ছে একই দিনে দুটি ঘটনার মধ্যে কী কোনো সম্পর্ক রয়েছে অথবা ঘটনা দুটির পেছনে কী কোনো দুঃশ্চিন্তার বিষয় আছে?

একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, অতি সম্প্রতি গত ২৯ এপ্রিল সোমবার রাজধানীর গুলিস্থানে ককটেল (বোমা) হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। বঙ্গবন্ধু শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকায় দুই মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া ঘটনার সময় ওই এলাকার আহাদ পুলিশ বক্স লক্ষ্য করেও বোমা হামলা চালানো হয়।

হামলার পর দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আইএসের জড়িত থাকার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এর কয়েকদিন পরই রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পুলিশ বলেছে মালিবাগের বোমাটি শক্তিশালী ছিলো।

এসকল ঘটনার প্রেক্ষিতে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বৃহস্পতিবারের ঘটনা দুটিকে খুব বেশি সাধারণভাবে নিতে পারছি না!যদিও অস্বাভাবিক ভাবার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে দেশের দুই শীর্ষ রাজনীতিক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে জাতি হয়তো চিন্তিত।তারা অপেক্ষায় থকবো ঘটনা দুটি হালকাভাবে না নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে পেছনের রহস্য উদঘাটন করা হবে।এবং বাংলাদেশকে অশনি সংকেতের কবল থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টরা আরো বেশি দায়িত্বশীল হবেন। 

সুত্র: গো নিউজ ২৪

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :577 বার!

error: Content is protected !!
JS security