মন্ত্রী উদ্বোধন করলেন প্রবাসী সেবা অ্যাপ ‘আমি প্রবাসী’

সম্প্রতি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে ‘আমি প্রবাসী’ (Ami Probashi) নামের একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং একটি বেসরকারি অ্যাপস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এ উদ্যোগটি  মুজিববর্ষ উদ্যাপনের বিভিন্ন উদ্যুগের একটি অনন্য উদ্যোগ।

শনিবার (৮ মে) অনলাইনে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে প্রবাসী কর্মীরা উপকৃত হবেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের বিদ্যমান ডাটাব্যাংকে অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহারকারীরা অ্যাপটিকে একটি ঐচ্ছিক চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে বিএমইটি’র বিদ্যমান সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই নিজের স্মার্টফোন থেকে বিএমইটি’র ডাটাব্যাংকে অন্তর্ভুক্তির সুবিধা পাবেন।

প্লে স্টোর থেকে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর চালু করে বাংলা কিংবা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করতে হবে। মোবাইল নম্বর কিংবা ইমেইল আইডি উল্লেখ করতে হবে। ফোন নম্বর দেওয়া হলে মোবাইলে তাৎক্ষণিক একটি কোড আসবে। সেটি অ্যাপে প্রবেশ করানোর পর কমপক্ষে ৩টি দেশ নির্বাচন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ২৩টি দেশের কথা সেখানে উল্লেখ করা থাকলেও ‘অন্যান্য দেশসমূহ’ নামের সেকশনে প্রবেশ করলে আরও তালিকা পাওয়া যাবে।

এই ধাপের পর আসবে কোন বিষয়ে আপনার কারিগরি দক্ষতা আছে। এখানে শ্রমিক, ক্লিনার, ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, শেফ, কন্সট্রাকশন ওয়ার্কারসহ আরও কতোগুলো অপশন আছে। যিনি যে কাজে দক্ষ সেটা নির্বাচন করে যেতে পারবেন পরের ধাপে। উল্লেখ করতে হবে লিঙ্গ। তারপর বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রদান করলে মূল অ্যাপে প্রবেশ করা যাবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজে নিবন্ধন করতে অ্যাপের মাধ্যমে ‘আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন’ ক্লিক করতে হবে। সেখানে প্রবেশ করলে নাম, পাসপোর্টের নম্বর, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং জন্মস্থান উল্লেখ করতে হবে। পাসপোর্টের তথ্যের পর ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের তথ্য, নমিনির তথ্য, জরুরি যোগাযোগের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ এবং ভাষাগত যোগ্যতার তথ্য প্রবেশ করাতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর বিএমইটি কার্ড ইস্যু করা হবে এবং সেটার তথ্য সম্বলিত কিউআর কোড অ্যাপে পাওয়া যাবে।

‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া, চাকরি খোঁজাসহ আবেদনের অগ্রগতি এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কী কী করতে হবে তা জানা যাবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না করে কিংবা এর মাধ্যমে বিএমইটি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না হলে অন্য সেবা পাওয়া যাবে না।

এ ছাড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস, রিক্রুটিং এজেন্সি, জেলা জনশক্তি অফিস, মেডিক্যাল সেন্টার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ (টিটিসি) জিপিএস-এর মাধ্যমে দেখা যাবে। নির্দিষ্ট অফিসের ঠিকানায় কিংবা নামে ক্লিক করলে ম্যাপে সেটার অবস্থান দেখা যাবে।

তাছাড়া এই অ্যাপে বৈধভাবে বিদেশ যাত্রায় যেসকল ধাপ আছে তার একটি চেকলিস্টও করে দেওয়া আছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।

‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপে যেসব দেশে কর্মীরা সচরাচর যায় সেসব দেশে যাওয়ার নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আনুমানিক খরচ কতো সেটারও উল্লেখ আছে। তাছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও আছে। পাশপাশি নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্টের কপি, চাকরির অনুমতিমত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করে সংরক্ষণের সুবিধাও আছে। কোথাও কোনও সমস্যায় পড়লে কোন দেশে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সেটার বিস্তারিত তথ্য ও ইমেইল ঠিকানাও পাওয়া যাবে এই অ্যাপে।

অ্যাপটির নির্মাতারা জানান, বিদেশে চাকরির প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত একটি উদ্যোগ ‘আমি প্রবাসী’। এখন এই অ্যাপ নির্মাতা টিমটি বিদেশে চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করছে। যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করা যায়। এতে করে কর্মীরা জালিয়াতি ও  অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে বলেও জানান তারা।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :188 বার!

JS security