মসজিদের চাঁদা বাকি থাকায় কবরস্থানে দাফন করতে মানা

মসজিদের পাঁচ মাসের চাঁদা বকেয়া থাকায় সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করতে দেয়নি মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী । এমন কি মৃত ব্যক্তির লাশ বহন করতে মসজিদের খাটিয়া নেয়া হলে তাও কেড়ে নেয়া হয় । এর উপর মসজিদের ইমামকেও জানাযা নামাজের ইমামতি করতে বাঁধা দেয়া হয় এবং মৃত ব্যক্তির নামে মসজিদের মাইকে মাইকিং পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি।

এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে রাস্তার পাশে অন্যের জায়গায় জন্ডিস আক্রান্ত মোঃ ইরফান উদ্দিনের (৩০) লাশ দাফন করেন তাঁর পরিবার।

বুধবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে বান্দরবনের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইয়াংছা বদুরঝিরি এলাকার। বদুরঝিরি এলাকার মসজিদের সভাপতি মোঃ আক্কাস আলী এই অমানুষিক কাজটি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকা সহ আশপাশের এলাকায় নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে মোঃ আক্কাস আলীকে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার বদুরঝিরি এলাকার মোঃ ইরফান উদ্দিন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । সেখানে মঙ্গলবার দিনগত রাত ৯টায় তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবার রাতেই তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ইরফান উদ্দিনের শশুড় কবির আহাম্মদ বলেন, খাটিয়া নেয়া ও সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফনের অনুমতি নিতে আমরা কয়েকজন রাত ১টায় মসজিদের সভাপতি মোঃ আক্কাস আলীর বাড়িতে যাই। অনেক ডাকাডাকি করলেও তিনি ঘুম থেকে উঠেননি। তারপর  ইমামের অনুমতিতে  লাশের গোসল ও লাশ বহনের জন্য বদুরঝিরি মসজিদের লাশবাহী খাটিয়াটি নিয়ে আসি।

বুধবার (৭ জুলাই) সকালে আক্কাস আলী বাড়িতে লোক পাঠিয়ে খাটিয়াটি নিয়ে যায় এবং বলে দেয় মসজিদের চাঁদা বকেয়া থাকায় সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা যাবে না। পরে ইয়াংছা জামে মসজিদের খাটিয়া এনে লাশ বহন করে নিয়ে রাস্তার পাশে অন্যের পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করি।

এ বিষয়ে বদুরঝিরি মসজিদের সভাপতি আক্কাস আলী জানান, দুই বছর আগে ইরফান ও তার শশুরকে সমাজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, এবং মসজিদের চাঁদা বকেয়া থাকার কারনে সমাজের কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হয়নি ।

তবে তার বক্তব্য সত্য নয় বলে জানায় মসজিদের অন্যান্য মুসল্লীরা। তার থেকে চাঁদা এত পাবেনা। আর যদিও মসজিদের চাঁদা বকেয়া থাকে সেইটা পরে দেখা যেত। আগে লাশ দাফন করতে দেয়া দরকার ছিল। সমাজের সকল জনগণ এমন ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে এলাকার যুব সমাজ ও মৃত ব্যক্তি ইরফান উদ্দিনের শশুড় কবির আহাম্মদ বিষয়টি ইয়াংছা আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকে জানালে বিষয়টি সমাধানে বিকাল ৫টায় বসার কথা ছিল। বিকাল ৫টায় ৭নং ওয়ার্ড এর মেম্বার কামাল উদ্দিন সহ সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হলেও মসজিদ সভাপতি আক্কাস আলী উপস্থিত হয়নি। তাকে একাধিকবার কল করার পরেও সে ক্যাম্পে আসেনি।

ওয়ার্ড মেম্বার কামাল উদ্দিন বলেন, আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইয়াংছা বদুরঝিরি মসজিদে সবাইকে নিয়ে বসে সমস্যাটির সমাধান করা হবে। সমাজে বিষয়টি সমাধান না হলে লামা থানার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :36 বার!

JS security