যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ !


সায়েক এম রহমান
এক
আজ লিখছি বাংলাদেশের ইতিহাসে দু-টি অক্ষরের একটি কালজয়ী নামের কথা! যে নামটি হলো ” জিয়া “! যার মাত্র চার, সাড়ে চার বছরের শাসন আমলের সুখ্যাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। যার নাম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত সহস্রাধিক স্থাপনায় লিখে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ধারণ করে আছে জিয়াকে।
যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তি যোদ্ধা, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, মুজিব প্রদত্ত বীর উত্তম, গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্টাতা ও বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।
পাঠক ইতিহাস বলে দেয়, ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের বেদনাদায়ক ঘটনাবলীর মাধ্যমে দেশে সামরিক তন্ত্র প্রতিষ্টিত হয়, কিন্তু প্রবল ভাবে ইতিহাস সাক্ষী তখন খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সামরিক তন্ত্র চালু হলেও, প্রসিডেন্ট জিয়া সেই দিন সামরিক তন্ত্রের বদলে গণতন্ত্র-ই চালু করে ছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, কারণ জিয়া ব্যক্তিগত মন মানসে ছিলেন গণতান্ত্রিক।। যে কারণে ৭৯ সালে সবদলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে নির্বাচন দিয়ে, বাকশাল কর্তৃক বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া গনতন্ত্রকে, বঙ্গোপসাগর থেকে টেনে উদ্ধার করে বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। যার ফলশ্রুতিতে আজকের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়।

দুই
পাঠক, বলতে হচ্ছে ১৯৭৭ সালে বাদশাহ ফাহাদের আমন্ত্রনে সৌদিতে যান বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং উপহার হিসাবে সাথে নিয়ে যান কিছু নিম গাছের চারা।নিম চারা গুলো উপহার দেওয়ার সময় জিয়া বলছিলেন,” গরিব মানুষের দেশের, গরিব রাষ্টপতির পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই সামান্য উপহার।
উল্লেখ্য সৌদি বাদশাহ বহু দেশ থেকে বহু মূল্যবান উপহার সামগ্রী তৎকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত পেয়ে আসছেন কিন্তু বাদশাহের ভাষায় এমন মূল্যবান উপহার বাদশাহ ফাহাদ আর পান নি! বাদশাহ আবেগ আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানকে।
জিয়াউর রহমানের দেয়া সেই নিমের চারাগুলি আজ মক্কা থেকে সমস্ত সৌদিজুড়ে।
আজ বাংলাদেশের স্মৃতি পবিত্র সৌদির মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তখন থেকেই এই গাছগুলোর নামকরণ হয় জিয়া ট্রি,আরবিতে বলা হয় জিয়া সাজারা। তবে “জিয়া ট্রি” নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
আজ কোটি কোটি হাজীরা আরাফাতের ময়দানে এই জিয়া ট্রির সুশীতল ছায়াতলে বসে, বিশ্বের কালজয়ী এই নেতার জন্য দোয়া করছেন অবিরত।
এছাড়াও আংকারা ও বাহরাইনে সুপ্ৰস্থ রাস্তায় শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষকের নাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এদিকে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বের পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি বড় রাস্তার নামকরণ হয়েছে ” অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে”।
এসব যেন নিঃসন্দেহে এই মহান কালজয়ী নেতার প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনগনের এক বিনম্র শ্রদ্ধার স্মারক! এতসব শ্রদ্ধা জ্ঞাপন বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছে।
শহীদ জিয়া বিশ্বজুড়ে এতসব কৃতিত্ব ও গৌরব অর্জনের পরও তারা মুছে দিতে পারে নিজ দেশের এয়ারপোর্টের জিয়া নাম, মুছে দিতে পারে বিভিন্ন স্থাপনার নাম, তারা উচ্ছেদ করতে পারে তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁহার স্মৃতি বিজড়িত আটত্রিশ বছরের বাড়ি থেকে। ৭৪ বছর বয়স্ক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে টুনকো একটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলায় তিন বৎসর যাবৎ জেলে আটকিয়ে রাখছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় সাজা দিয়ে দেশে আসার পথ বন্ধ করে রাখছে।
এসবের দরুন আশ্চর্য বা হতবাক মোটেই হই না কারন যেহেতু মাফিয়া তন্ত্র চলছে।
তারপরও কিছুটা হতবাক হই,,যখন দেখি যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা পদকের প্রবর্তন করলেন। ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর শাসন আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করলেন। নির্লজ্জের শেষ কোথায়,, আজ তাদেরই প্রবর্তন ও প্রদান করা পদক কেড়ে নিল মাফিয়া সরকার। এ বর্বরতার শেষ কোথায়।
তিন
আজ যখন বিশ্ব নন্দিত মিডিয়া আল- জাজিরা কর্তৃক বাংলাদেশ কে নিয়ে ” অল দ্য প্রাইম মিনিষ্টার ম্যান্স ” নামে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করল এবং বাংলাদেশ সহ বিশ্বজুড়ে সেইম, সেইম আলোড়ন সৃষ্টি করল, ঠিক সেই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বীর উত্তম বাতিল করে জাতীয় মুক্তি যোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। উল্লেখ্য ২০১৬ সালে জিয়ার কবর স্হানান্তরের জন্য এভাবে একটা ঘৃণিত খেলা শুরু করেছিল। আজ গ্রাম গঞ্জ থেকে শুরু করে শহর থক সাধারণ মানুষের বুঝার কিছু বাকি নেই, এ খেলা কিসের? মানুষজন ধিক্কার জানাচ্ছে, নির্লজ্জেতার যেন শেষ নাই!
আমি বলছি, খেতাব সরানো যাবে, লাশও সরানো যাবে, কিন্তু হৃদয়ে গাঁথা জিয়া কি সরানো যাবে? না, জিয়া মানুষের হৃদয়ে গাঁথা এক ভালবাসার নাম। যার অস্তিত্ব বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে, প্রতিটি নদীর বাঁকে, প্রতিটি মেঠো পথে, রাখালের কন্ঠে, গানের ছন্দে, এই নাম কালজয়ী, এই নাম অজয়। এখন প্রয়োজন একটি গণ বিপ্লবের মাধ্যমে মাফিয়া কে বিদায় করা। এখনই সময় কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা রুখে দাঁড়াতে হবে। বিপ্লবের ডাক বিএনপিকেই দিতে। এখন সময় ক্ষেপণ করা আহম্মকের পরিচয়।
আজ যারা ক্ষমতার ভারে মাফিয়া তন্ত্রে বীর উত্তম, স্বাধীনতা পদক ইত্যাদি বাতিল করছেন। তাদের বুঝা দরকার ক্ষমতা কখনও এক জায়গায় থাকে না। রদ বদল হবেই। তারা একদিন ইতিহাসে লিখিত হবেন। ইতিহাসের গহীন গহ্বরে পতিত হবেন। সময় সন্নিকটে। ইতিহাস ইতিহাসের গতিতেই চলবে।
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক
শীর্ষ খবর

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :68 বার!

JS security