রুহিয়ায় সমন্বিত পরিদর্শনকারী টিমের স:প্রা:বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন।

মাহমুদ আহসান হাবিব ঠাকুরগাঁওঃ-  ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম স্লীপ, প্রাক –প্রাথমিক, ওয়াশব্লক, রুটিন মেইন্টেনেন্স, মাইনর মেইন্টেনেন্স, মেজর মেইন্টেনেন্স, প্লেয়িং অ্যাকসেসরিস সরেজমিনে, তিন সদস্য বিশিষ্ট সমন্বিত পরিদর্শনকারী টিম কতৃর্ক পরিদর্শন করেছেন মোছা: রুনা লায়লা(ইউইও) মোছাঃ মমতাজ ফেরদৌসি(এইউইও) রবীন্দ্রনাথ রায়(এইউইও) মোঃ নজরুল ইসলাম(এইউইও)। বুধবার ১৯ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাধীন রুহিয়া ক্লাস্টারের দ্বয়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মোকাদ্দেস ইবনে সালামসহ সমন্বিত পরিদর্শনকারী টিম রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুজামন্ডলহাট স:প্রা:বিদ্যালয়, ফুলকুলী স:প্রা:বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে।
রুটিন মেইন্টেনেন্স, মাইনর মেইন্টেনেন্স, মেজর মেইন্টেনেন্সসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চলমান কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শ্রেণি বিন্যাসে সংস্কারমূলক উন্নয়নে পৃথকভাবে বিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন অংকের টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তবে বরাদ্ধকৃত খাত একাধিক হওয়ায় সংস্কারমূলক উন্নয়ন কাজ আলাদা আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়নি। কিন্তু বিদ্যালয় সংস্কার ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ক্রয়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকা পায় অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বরাদ্দকৃত খাত বা কাজের বিষয়ে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ছাড়া জানেন না অন্য কেউ। অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি জনগণকে জানিয়ে এসব কাজ করলে কাজের মানসহ স্বচ্ছতা বাড়বে। তাই আগামী দিনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাকদের জানিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ করার দাবি তাদের।
এদিকে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের দাবি উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যালয়ের ভবন, আসবাবপত্র সংস্কার, রংসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। এছাড়া যথাযথ কতৃপক্ষ কাজ পরিদর্শন করে প্রত্যয়নও দিয়েছেন এবং স্বচ্ছতার জন্য কাজের ব্যয়ের বিবরণ ভাউচারসহ রেখে দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো রাজস্ব ও উন্নয়নের জন্য দেড় বা ২ লাখ টাকা, স্লিপের শিক্ষার্থী অনুযায়ী ৫০ বা ৭০ হাজার, রুটিন মেইনটেন্যান্সের ৪০ হাজার, ওয়াসব্লকের ২০ হাজার এবং প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে সদর উপজেলায় ৮৫ টি বিদ্যালয় মধ্যে রাজস্ব খাতে মাইনর মেরামতের জন্য ২ লাখ করে বরাদ্দ পায়। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি স্কুল স্লিপের ৫০ বা ৭০ হাজার ও প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার করে টাকা পেয়েছে এবং ওয়াসব্লক থাকা স্কুলগুলো পেয়েছে ২০ হাজার ও রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ না পাওয়া ২৯৬টি বিদ্যালয়ে রুটিন মেইনটেন্যান্সের ৪০ হাজার টাকা করে পেয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের দেড় বা দুই লক্ষ টাকা দিয়ে বিদ্যালয় ভবন রং, ফ্যান ক্রয় ও মেরামত, দরজা-জানালা, বেঞ্চ মেরামত, কেচি গেট মেরামত, বাগান তৈরি, বাণী লেখা, শোকেস বার্ণিশ, আলমারি ও ফাইল কেবিনেট রং করা, টেবিল চেয়ার মেরামত, গ্রিলের গেট তৈরি ইত্যাদি। স্লিপের প্রকার ভেদে ৫০/৭০ হাজার টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা, শিক্ষা উপকরণ তৈরি, উপকরণ রাখার সেলফ তৈরি, জাতীয় দিবস উদযাপন, মা সমাবেশ উদযাপন, গরিব শিক্ষার্থীদের খাতা ও কলম ক্রয়, টয়লেট পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নকরণ সামগ্রী ক্রয়, ফুলের বাগান তৈরি, মেধা পুরস্কার ক্রয়, ক্ষুদে ডাক্তারদের ড্রেস তৈরি, পাঠাগারের বই ক্রয়, ফিল্টার ও স্টিলের আলমারি মেরামত ইত্যাদি। রুটিন মেইনটেন্যান্সের ৪০ হাজার টাকায় দেয়াল ও মেঝে মেরামত, শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ, অফিস ও শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, প্রাক-প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকায় প্লাস্টিকের ম্যাট ক্রয়, প্লাস্টিকের ঘোড়া, স্লিপার, জুতার বাঙ্, রং পেনসিল, চক, হাড়ি, পাতিল, বল ইত্যাদি।
ওয়াসব্লকের ২০ হাজার টাকায় টয়লেট সামগ্রী ও তালা ক্রয়, বাল্ব ও হোল্ডার ক্রয়, রং করা, ট্যাঙ্কি পরিষ্কর, পরিচ্ছন্নকর্মীর চার্জ ইত্যাদি কাজে খরচ করা হয়েছে। রুহিয়া শিক্ষাকল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ মজলুম পারভেজ দৈনিক লোকায়নকে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংস্কারের জন্য বছরে ছোট ছোট যে বরাদ্দ দিচ্ছে। তাতে বিদ্যালয়গুলোর চেয়ার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু সেভাবে হচ্ছে না। তাই উন্নয়ন কাজ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের মানুষের সমন্ময়ে করা উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, আসলে মেরামত, সংস্কার, স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স যাই বলেন না কেন ওই টাকা দিয়ে স্কুলের কাজই করা হয়। কারণ ওই সামান্য টাকা দিয়ে একটি স্কুলের সারা বছরের মেরামত কাজসহ অন্যান্য কাজ করা কষ্ট। বিদ্যালয়ে তো অনেক খরচ। কাজের শেষে খরচের স্থানে উল্লেখ করে লেখা হয় কি কাজ করা হয়েছে। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এলে চা নাস্তার ব্যবস্থা, হঠাৎ কেউ পরিদর্শনে এলে চা নাস্তার ব্যবস্থা করতে হয়। সেই খরচ কে দেবে? আর সেই খরচ তো রেজিস্ট্রারে লেখা যায় না। তাই উন্নয়নমূলক সবগুলো কাজ একত্রে করে কাগজে কলমে ভাগ ভাগ করে দেখানো হয়। তবে এসব ছোট ছোট বরাদ্দের টাকা থেকে তেমন দুর্নীতি হয় না। কাজ শেষে কিছু টাকা থাকে।
যা সারা বছরের আপ্যায়নে খরচ হয়। ১১নং মুজামন্ডলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী মোঃ বদরুল ইসলাম বিপ্লব(সাবেক সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব) বলেন, তার বিদ্যালয় রুটিন মেইনটেন্যান্সের টাকা পেয়েছে। কাজ শুরু করেছে ১০/১২ দিনে কাজ সম্পন্ন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুলের এ অল্প বরাদ্দের টাকা এদিক ওদিক হয় না। কারণ যারা দায়িত্বে থাকেন, তারা সেটি করতে দেন না। সদরের প্রতিটি স্কুলের কমিটির সদস্যরা অনেক ভালো এবং শিক্ষার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে তাদের সবার। রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তার স্কুল ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স, ওয়াসব্লক ও প্রাক-প্রাথমিকের টাকা পেয়েছে এবং সেই টাকা দিয়ে কাজও শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে ৫/৬ দিন লাগবে। সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোছা: রুনা লায়লা বলেন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের টাকা তো জুনে শেষ হয়েছে।
আবার নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। এই অর্থ বছরে সদর উপজেলায় ৮৫টি বিদ্যালয় মাইনর মেইন্টেনেন্স খাতের বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সব স্কুল স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স, ওয়াসব্লক ও প্রাক-প্রাথমিকের টাকা পেয়ে করোনার কারনে কিছুটা ধীরগতি হলেও, যথাযথ নিয়মে কাজ চলছে, ইতিমধ্যে বিদ্যালয় বিন্যাসে ৭০/৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :246 বার!

JS security