সুনামগঞ্জে পানিবন্দী মানুষ কঠিন পরিস্থিতিতে দিন যাপন করছে

গ্লোবাল ডেস্ক:- টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তঘেষা হাওর জনপদ সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের মানুষের এক দুর্যোগময়  কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। চতুর্দিকে দেখা দিয়েছে হাহাকার। যান চলাচলে বিঘ্নিত ঘটায় এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিনাতিপাত করছে।

যদিও হাওরপাড়ের এসব মানুষ তাদের জীবনের প্রতিটি বর্ষায় এমন প্লাবন দেখে আসছেন অনেকটাই নিয়মিত। তাদের কাছে এমন ঘটনা অনেকটা স্বাভাবিক হলেও এবারের বর্ষায় দেখা দিয়েছে বন্যা ঝুঁকি। গত কয়েকদিনে নদীগুলোতে ঢলের বেগ অন্যান্যবারের চেয়ে বেশী হওয়ায় ও ভাড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হয়ে পরেছেন কয়েক হাজার মানুষ। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মানুষের। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমাসহ সকল শাখা নদীর পানি। হাওর নিকটবর্তী নতুন নতুন গ্রামগুলোও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে প্লাবিত হয়ে পরছে। স্থানীয়রা রয়েছেন বন্যা ঝুঁকিতে। বুধ ও বৃহস্পতিবারের ছবিতে তোলে ধরা হয়েছে জেলার নিম্নাঞ্চলের এসব মানুষের দুর্ভোগ।

প্লাবিত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যোগাযোগের ক্ষেত্রে। পায়ে হেটে অতিক্রম করতে হচ্ছে জলমগ্ন সড়ক।

সুরমায় এখন পানি থৈ থৈ। উপচে গ্রাস করছে দুই পাড়ের লোকালয় আর গ্রামগুলোকে।
প্রবল স্রোত নিয়ে পানি ঢুকছে নিম্নাঞ্চলে।
নীচু এলাকার মানুষের বসৎঘরগুলো তাই এখন প্লাবনের কবলে।
অনেক এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় ঘর ছেড়েছেন অসহায় মানুষ।
নিরাপদ আশ্রয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সরে আসছেন তারা।
স্থানীয় জলাশয়গুলোতে পানি ঢুকে পরায় মৎসচাষিরাও পরেছেন লোকসানের ঝুঁকির মুখে।
পুকুরের চারদিকে বেস্টনি দিয়ে মাছ আটকানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় তারা।
কোন কোন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে মানুষ পৌছাতে পারলেও কোমড় অব্দি পানি মাড়িয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনতে আশেপাশের বাজারগুলোতে আসতে হচ্ছে অনেককে।
অনুমান করে একটু একটু করে এগুতে হচ্ছে তাদের। রাস্তাগুলো স্রোতের কবলে পরে ভেঙ্গে গিয়ে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্ত। তাই ভয় নিয়েই চলতে হচ্ছে।
উপজেলা সড়কগুলোতেও প্রবল স্রোতের কবলে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পানির নীচে এগুলো লুকিয়ে থাকায় চলতে গিয়ে এভাবেই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।
প্রবল বৃষ্টিপাত থাকায় জরুরী প্রয়োজনে ঝুকি নিয়ে চলাচলকারি যানবাহনগুলোতে আরও একটু সতর্ক থেকে অনেকেই দিনের বেলায়ও আলো জ্বালিয়ে ছুটছেন গন্তব্যে। তবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব সড়কের অনেক এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলেই বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল।তবে ভাড়ায় চালিত কিছু সংখ্যক মোটরসাইকেল নির্দৃষ্ট কিছু এলাকার সড়কে চলাচল করছে।

বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় সকল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলাসহ সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসসহ সকল উদ্ধারকারি দলের সদস্যদের। নিচু এলাকার সকল বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

....সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন

মন্তব্য

সংবাদটি পড়া হয়েছে :247 বার!

error: Content is protected !!
JS security